শিশুটি তার অধিকার পাচ্ছে কিনা ঘ্রাণ শুঁকছেন একজন পশ্চিমা শিশু অধিকার কর্মী।

JamunaTV
তথাকথিত সভ্য দেশগুলোর হেভিওয়েটদের পার্টিতে শিশু ও নারীদের উপর চলতো যৌন নির্যাতন, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের হত্যাও করা হতো! এমনকি সেই সব নির্যাতিত শিশু ও নারীদের মাংস খাওয়া হতো বিভিন্ন পার্টিতে? ঠিক শুনছেন এমন ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ উঠেছে এপস্টেইন ফাইলে। যা সামনে আসতেই তোলপাড় বিশ্ব। সদ্য প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত তদন্ত নথিতে অন্তর্ভুক্ত এক সাক্ষীর জবানবন্দি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD)-এর গোয়েন্দা বিভাগের একটি নথি (আগস্ট ২০১৯) থেকে নেওয়া এই বক্তব্যে একাধিক ভয়াবহ ঘটনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগই বর্তমানে বিচারাধীন এবং আইনি ভাবে এখনও প্রমাণিত নয়। সাক্ষীর দাবি: শৈশবেই এপস্টাইনের সংস্পর্শ নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে তিনি প্রথম ৫ বছর এবং পরে ৮ বছর বয়সে একটি ইয়াট (নৌযান) ক্লাবে জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর বক্তব্য, ২০০০ সালে একটি বড় ইয়াটে এপস্টাইন তাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও তাকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, এসব ঘটনার সময় তিনি প্রচণ্ড মাদক প্রয়োগের ফলে অচেতন অবস্থায় ছিলেন। ইয়টে ‘ভয়াবহ দৃশ্য’ দেখার অভিযোগ সাক্ষীর জবানবন্দিতে আরও বলা হয়েছে, তিনি একটি ইয়াটে এমন কিছু দৃশ্য দেখেছেন যা অত্যন্ত বিভীষিকাময়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি শিশুদের হত্যা করে তাদের মাংস খাচ্ছিলেন এবং শিশুদের নাড়িভুঁড়ি বের করে অমানবিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাক্ষীদের অভিযোগে উঠে এসেছে প্রভাবশালী সব ব্যক্তিদের নাম। এক অভিযোগকারীর অভিযোগ, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ (জর্জ বুশ সিনিয়র) তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। এপস্টেইন কান্ডে নাম জড়িয়েছে আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক থেকে শুরু বিল গেটস আরও অনেকের। আইনি অবস্থান আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নথিগুলো তদন্তকালীন সাক্ষ্য—যা আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ হিসেবেই গণ্য হবে। অভিযুক্ত সকল ব্যক্তি দোষী কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যতক্ষণ না তা প্রমাণিত হয়। তবে এই প্রশ্নও উঠছে আসলেই কি এই বিচার প্রক্রিয়া কখনো আলোর মুখ দেখতে পাবে? পৃথিবীর কোনো আদালত কোনো শক্তি কখনো কি এই সব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করতে পারবে বা সেই সাহস করবে? কারণ এটাই সত্য এই ধরনের অভিযোগ ইতিপূর্বেও অনেক বারই উঠেছে কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো বিচার হয়নি। ফলে জেফ্রি এপস্টাইন কাণ্ডের বিচার কখনো শেষ হবে কিনা বা শেষ হলেও অপরাধীরা সাজা পাবে কিনা সেই সন্দেহ থেকেই যায়।