‘এপস্টাইন ফাইলস’ ঘিরে মোদির নাম: নথিতে কী আছে, কী বলছে সরকার ও বিশ্লেষকরা
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রকাশিত জেফরি এপস্টাইন–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি, যেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ‘এপস্টাইন ফাইলস’ নামে পরিচিত, তা ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। এসব নথিকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম জড়িয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, নথিতে মোদির নাম থাকার দাবি করা হলেও, সেখানে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা এপস্টাইনের অপরাধচক্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নথিতে বহু রাষ্ট্রনেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বিভিন্ন প্রসঙ্গে উল্লেখ থাকলেও, সেটিকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিতে মোদির নাম নিয়ে যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। সরকার দাবি করেছে, এসব তথ্যের সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক সত্যতা নেই এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো গুজব।
সরকার আরও জানায়, আন্তর্জাতিক নথিতে কোনো নেতার নাম উল্লেখ থাকলেই তা অপরাধের প্রমাণ হয়ে যায় না। যাচাই ছাড়া এমন দাবি প্রচার করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা, বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও শিরোনাম ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই না করেই দাবি করা হয়েছে যে, নথিতে মোদিকে ‘বিশ্বের প্রভাবশালী বা নিয়ন্ত্রক নেতা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে—যার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
