প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা ভোট পাবে—গুজব নাকি বাস্তবতা?
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে—বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা ভোট দেওয়ার অধিকার পাবে। এই দাবিকে ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাস্তবে এই তথ্য কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই এই প্রতিবেদন।
যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে
সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব ভিডিও ও অনলাইন পোস্টে বলা হচ্ছে—
- রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে
- প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা ভোট দেবে
- নির্বাচনে তাদের ব্যবহার করা হবে
তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন বা নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের আইনে কারা ভোট দিতে পারে
বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচন আইন অনুযায়ী—
- ভোটাধিকার কেবল বাংলাদেশি নাগরিকদের
- ভোটার তালিকাভুক্ত হতে হবে
- জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে। তারা বাংলাদেশের নাগরিক নয় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রও নেই। ফলে আইনগতভাবে তাদের ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
রোহিঙ্গাদের বর্তমান আইনি অবস্থান
বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে। সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও—
- নাগরিকত্ব দেয়নি
- রাজনৈতিক অধিকার দেয়নি
- ভোটাধিকার দেয়নি
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—রোহিঙ্গাদের স্থায়ী সমাধান হলো নিজ দেশে প্রত্যাবাসন।
ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা—আদালতের ভূমিকা
অতীতে অভিযোগ ওঠে, কিছু রোহিঙ্গা ভুয়া পরিচয়ে ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছিল। পরে তদন্ত করে এসব নাম বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—
রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
তাহলে গুজব ছড়াচ্ছে কেন?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের গুজব ছড়ানোর পেছনে রয়েছে—
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
- নির্বাচনকে ঘিরে আতঙ্ক তৈরি
- আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা
- যাচাই ছাড়া তথ্য শেয়ার
সংক্ষেপে বাস্তব সত্য
- রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়
- তারা ভোটার তালিকায় নেই
- তাদের ভোট দেওয়ার কোনো অধিকার নেই
- “১০ লাখ রোহিঙ্গা ভোট দেবে” দাবি সম্পূর্ণ গুজব
উপসংহার
রোহিঙ্গা সংকট মানবিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাদের ভোটাধিকার দেওয়ার কোনো আইনি বা সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে নেই। তাই যাচাই ছাড়া এমন দাবি বিশ্বাস বা প্রচার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ।
এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মৌলিক ও কপিরাইট-মুক্ত।
